by Team CAPS, 0 Comments
উপস্থিত ছিলেন বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এর গবেষক ইঞ্জি. মারজিয়াত রহমান, পরিবেশ উদ্যোগ এর গবেষণা সমন্বয়ক ইঞ্জি. নাছির আহম্মেদ পাটোয়ারী, বারসিক এর প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সাগর, একশন এইড […]
একবিংশ শতাব্দীর মানবজাতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করা। এ পরিবর্তন মোকাবেলা ও এর বিরূপ প্রভাব থেকে মানবজাতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার জন্য ১৯৯৫ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছর বিশ্বের কোনো না কোনো শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন, যা বিশ্বব্যাপী কপ নামে পরিচিত। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও জাতিসংঘ আয়োজন করেছে জলবায়ু সম্মেলনের ২৭তম আসর। বহু আন্তর্জাতিক সংকটের মীমাংসার ইতিহাস যে ভেন্যুতে (মিসরের উপকূলীয় সবুজ শহর শার্ম আল-শেখের রেড সি রিসোর্ট), সেখানেই এবারের জলবায়ু সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য, সম্মেলনটি জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) চুক্তি গ্রহণের ত্রিশতম বছরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় Delivering for people & the planet (ডেলিভারি ফর পিপল ফর প্লানেট) এবং মূল আলোচনার বিষয়বস্তু অভিযোজন, অর্থায়ন, টেকসই জ্বালানি, নেট জিরো, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা। এছাড়া গত কপ সম্মেলনগুলোর সফলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়েও আলোচনা চলছে। কপ২৭ নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।
বায়ুদূষণ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ হলো, মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া। প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে বায়ু, প্রভাব ফেলছে স্বাস্থ্যের ওপর। তাই এ মুহূর্তে যদি দূষণ রোধে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেয়া না হয়, বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মকে বায়ুদূষণের কারণে অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের অকালমৃত্যু হয়। যার মধ্যে পরিবেষ্টিত বায়ুদূষণের কারণে ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং গৃহ অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণের কারণে ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়। আবার যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণের দিক দিয়ে ২০২০ ও ২০১৯ সালে শীর্ষ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ এবং বিশ্বের রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে দূষণের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা শহর।
সমাজ কাঠামো পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হলো শিল্পায়ন। যেখানে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে সমাজ ক্রমান্বয়ে শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ পরিবর্তনের মূলে রয়েছে উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার। শিল্পায়ন সমাজের মধ্যে নিয়ে আসে প্রযুক্তির ছোঁয়া, ফলে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় পরিবর্তন। শিল্পায়নের ফলে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসে মানুষের জীবন-জীবিকায়। আর্থসামাজিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে শিল্পায়নের উদ্ভাবন ঘটলেও বর্তমান সময়ে শিল্পায়ন শব্দটির সঙ্গে পরিবেশগত শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যেখানেই শিল্পায়ন হচ্ছে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। এ শিল্পায়নের গতিতে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশও। বাড়তি জনগণের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা মেটাতে শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ঘটছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের শিল্প-কারখানা স্থাপিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য শিল্প হচ্ছে ট্যানারি ও পোশাক। অন্যদিকে স্থাপত্য শিল্পের উন্নতির কারণে নিত্যনতুন স্থাপনার জন্য জোগান দিতে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রীর। নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে অন্যতম উপাদান ইট ও সিমেন্ট। প্রতিটি শিল্প বিভিন্নভাবে দূষিত করছে মাটি, পানি, বায়ু, নদীসহ ভূগর্ভস্থ পানিও। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা যায় যে মোট বায়ুদূষণের ৫০ শতাংশেরও বেশি, নদীদূষণের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং শব্দদূষণের প্রায় ৩০ শতাংশ শিল্প-কারখানা থেকে সৃষ্ট।
