আমাদের দেশের থার্টিফার্স্ট নাইটসহ বিভিন্ন উৎসবে পশুপাখিদের এই আত্মচিৎকার আমরা দেখি। পাখিরা প্রচণ্ড আওয়াজের কারণে ওড়াউড়ি করে এবং গাছে বা ভবনের দেয়ালে আঘাত পেয়ে নিচে পড়ে যায়, ফলে আহত হয় এবং মারাও যায়। রাস্তার কুকুর-বিড়াল, গৃহস্থালি প্রাণী এমনকি বন্যপ্রাণীরাও শব্দের কারণে ভয়ে বিভ্রান্ত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে মারা যাচ্ছে।
জীবাশ্ম জ্বালানিকে ‘ফেজ-আউট’ বা ‘ফেজ-ডাউন’ ঘোষণাটি কপ-২৮ চূড়ান্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে কিনা তার ওপর নির্ভর করছে ২০২৩ সালের জলবায়ু সম্মেলনের সফলতা। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন যে হারে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুদূষণ বাড়ছে এবং জলবায়ু সংকট তীব্রতর হচ্ছে; তা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হলো জীবাশ্ম জ্বালানিকে ‘ফেজ-আউট’ বিষয়ে বিশ্বনেতাদের সম্মত হওয়া। এটি আর গোপন নয় যে, জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার মাধ্যমেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের এর নিচে রাখা সম্ভব। তবে, প্রাধান্য বিস্তারকারী জীবাশ্ম জ্বালানির পর্যায়ক্রমিক বন্ধের বিষয়টিকে একটি সাধারণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া বলে মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি জটিল এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিগণ।
জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন-কপ২৮ এর প্রথম সপ্তাহের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো এই পর্যন্ত জলবায়ু ফান্ডের ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এমনি ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবেশমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন-কপ২৮ এর প্রেসিডেন্ট ড. সুলতান আল জাবের। এই ঘোষণা প্রথমবারের মতো খাদ্য ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর, নবায়নযোগ্য শক্তি ও শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভারী শিল্প হতে কার্বনমুক্তকরণের জন্য ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
আজ কপ-২৮ এর ষষ্ঠ দিনে আদিবাসী জনগন বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আদিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ সহ অন্যান্য ফ্রন্টলাইন কমিউনিটির নেতারা ক্ষুব্দ হয়ে বলেন, আদিবাসী প্রতিনিধিদের তুলনায় অন্তত ৭ গুন বেশী জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্টের উপস্থিতি রয়েছে কপ-২৮ সম্মেলনে। আদিবাসী নেতারা আরও বলেন, অগ্নিনির্বাপক কনভেনশনে অগ্নিসংযোগকারীদের উপস্থিতির কোন যৌক্তিকতা নেই। এছাড়াও তারা জলবায়ু আলোচনা থেকে বড় দূষণকারীদের বের করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
দুবাই জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৮ এর পঞ্চম দিনের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল অর্থ, বাণিজ্য, জবাবদিহিতা। এছাড়াও লস অ্যান্ড ড্যামেজ, মানবাধিকার, জলবায়ু ন্যায্যতা, বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
জলবায়ু নিয়ে শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৮ এর চতুর্থ দিনে জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্থূলতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও অপুষ্টিজনিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সংকট। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যেমন: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, নদীভাঙন এবং জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা প্রভৃতির কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ জলবায়ু পরিবর্তন দেশের কৃষি, অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন ‘কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস’ (কপ-২৮) এর এবারের আসর গত ৩০ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে উদ্বোধন করা হয়।
